↑SC
MCC logo
MCC Newsletter
October 2026
HomeBack to October issueContribute

Islamic essay

নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলাম তথা রাসুল (সা.)-এর অবদান

By অধ্যাপিকা শামিমা আফরোজ

Share
f𝕏W✉

প্রবন্ধ

নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

তথা রাসূল (সা)-এর অবদান

(একটি সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ)

মানব সমাজের অর্ধাংশই নারী | নারী এবং পুরুষের যৌথ অবদানেই প্রতিষ্ঠিত হয় সুখী-সমৃদ্ধ

এবং শান্তিময় সমাজ | একটি দেশের মর্যাদা নির্ভর করে সে দেশের নারীর অবস্থানের উপর |

বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সময় আরব দেশসহ সমগ্র বিশ্বেই নারীদের অবস্থা

ছিল করুণ, মর্মান্তিক নারীর অধিকার ও মর্যাদা তো দূরের কথা, সমাজে তাদের অপাঙ্ক্তেয়

মনে করা হতো | নারীদের অমানুষিক নির্যাতন করা, হত্যা করা, পণ্যের মত বেচাকেনা করাই

ছিল তৎকালীন সাধারণ নিয়ম। তিনি নারীদের সেই অমানবিক অবস্থা থেকে শুধু উদ্ধারই

করেননি বরং অধিকার ও সম্মানের সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি তো শুধু পুরুষের জন্যই

রহমতস্বরূপ আসেননি বরং নারী-পুরুষ তথা সমগ্র মানবজাতির জন্যই এসেছিলেন। আল্লাহ্‌

পাক বলেন, “আমি তোমাকে সম বিশ্বের জন্য রহমতন্বরূপ ধরেরণ করেছি।' অন্যত্র বলেছেন,

“হে মুহাম্মদ! আমি তোমাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারী হিসেবে

পাঠিয়েছি” (সুরা সাবা ২৮)। কোথাও তাকে “সিরাজাম মুনীরা' বা “উজ্জল প্রদীপ' বলা হয়েছে।

অত্র প্রবন্ধে অন্যান্য ধর্ম ও সভ্যতায় নারীর অবস্থান কিরূপ, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে

ধরার প্রচেষ্টা করা হয়েছে এতে বিষয়টি অধিকতর পরিষ্কার হবে আশা করি।

বিভিন্ন ধর্মে নারীর অবস্থান

ইহুদি ধর্ম: এ ধর্মে নারীকে নিতান্তই হেয় চোখে দেখা হয়, নারীকে সকল দুঃখ-দুর্দশার কারণ

বলা হয়েছে। তৌরাতে হযরত হাওয়াকে নিষিদ্ধ ফল খাওয়ার জন্য দায়ী এবং সেকারণেই

পৃথিবীতে এত দুঃখ-দুর্দশী ঘটেছে বলা হয়।

RE ধর্ম: এ ধর্মে 'নারীই পাপের মূল উৎস" | তাদের ধর্মগুরু Tertullian নারী সম্পর্কে মন্তব্য

করেছেন 'সে শয়তানের আগমনের দ্ারন্বরূপ। সে নিষিদ্ধ বৃক্ষের দিকে আকর্ষণকারিণী, খোদার

আইন ভংগকারিণী ও পুরুষের ধ্বংসকারিণী। খ্রিষ্ঠীয় তাগসশ্রেষ্ঠ Chrysostum বলেছেন,

একটি অনিবার্য পাপ, একটি জন্মগত দুষ্ট প্ররোচনা, একটি আনন্দদায়ক বিপদ, পারিবারিক

আশঙ্কা, ধ্বংসাত্মক প্রেমদায়িনী, একটি সঙ্জিত fy | রদ লাম উপ) এই

তালাক ও খোলার অনুমতি CHR | AAA মধ্যে কারও মৃত্যু হলে পুন! অনুমতি নেই

উত্তরাধিকারী অধিকার অত্যন্ত সীমিত, টা oe Pane পালি অধ Oana ogy

না। ষষ্ঠ শতাব্দীতে একটি বিশাল কনফারেন্স ডাকা হয়। এতে নারী সম্পর্কিত আলোচনা ছিল

যে- নারীর প্রাণ আছে কিনা, সে মানুষ কিনা? বিস্তারিত আলাপ-আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে

“নারী মানুষ নয়, জীব মাত্র |

হিন্দু ধর্ম: সর্বাপেক্ষা কুসংস্কারাচ্ছন্ন এ ধর্মে নারীদের অবস্থা খুবই শোচনীয় মুনী-ধধিগণ

বলেছেন- সা সারি সলেওররিরো eatte tet Aira । পিতা বাস্বামীর

সম্পত্তিতে নারীর কোন অধিকার রক্ষিত নেই। কন্যাদায়গ্স্ত পিতার অবস্থাও খুবই বেদনাদায়ক,

সতীদাহ প্রথাসহ নানা ধরনের জঘন্যপ্রথা চালু আছে এ ধর্মে | aT 'বেদ' যা তাদের TTR

তা পড়া বা ছোয়া নারীর জন্য নিষিদ্ধ। প্রথম সন্তান গঙ্গায় নিক্ষেপ কালিদেবীর পদতলে বলি

দেয়া, কুমারী পূজা, লিঙ্গ পূজা ইত্যাদি এ ধর্মে চালু আছে।

দর্পণ|১৭

বৌদ্ধ ধর্ম: এ ধর্মেও হিন্দুদের অনুরূপ সম্পত্তিতে নারীর অধিকার নেই। পিতা যুবতী কন্যাকে

কোন পন্থা AR

বিভিন্ন সভ্যতায় নারীর অবস্থান

Re সভ্যতা: প্রাচীন জাতির মধ্যে গ্রিক সভ্যতাই সর্বাপেক্ষা গৌরবময়। এ জাতি ইহুদি-

খিষ্টানদের ন্যায় নারীকে ঘৃণ্য চোখে দেখত | গ্রিক পুরানে “পান্ডারাকে' মানুষের দুঃখ-দুর্দশার

কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। এজাতি যখন নারীকে সম্মান ও মর্যাদা দেয়া শুরু করল, পর্দা

প্রথা চালু করল তখনই তারা সভ্যতার স্বর্ণশিখরে আরোহণ করল। এরপর নারীকে এতবেশি

স্বাধীনতা দেয়া হল যে বেশ্যারা দেবী হিসেবে স্বীকৃতি পেল। পতিতালয়গুলো উপাসনা মন্দিরে

পরিণত হল। এদের ইঙ্গিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হত, ‘Peck! এদেরই একজন | তাদের “প্রেমের

দেবী আফরোদিতি একই সাথে স্বর্গের দেবতা এবং মর্তের মানুষের সাথে প্রেম করত। পরিণতি

স্বরূপ এ জাতির পতন ঘটল।

রোম সভ্যতা: িকদের পর রোমীয়দের উন্নতি হয় । এরাও নারীদের নগণ্য মনে করত। নারী

লাঞ্ছনা, হত্যা কোন অপরাধই বিবেচিত হত না অতঃপর নারীর মর্যাদা উন্নত করা হয়। বিবাহ,

সতীত পারিবারিক শৃংখলাকে গুরুত্ব দেয়া VW ফলে রোমীয়দের সভ্যতার দ্রুত বিপর্যয় ঘটে

এবং থিকদের মত অবস্থা BT | নারীরা বহু স্বামী গ্রহণ করতে থাকে | পঞ্তিত মার্শাল (B: ৪৩-

১০৪) ১ জন নারীর ১০ জন স্বামী গ্রহণের কথা জানান। বড় বড় নীতিবিদগণ ব্যভিচারকে

সাধারণ কার্য মনে করত। অশ্রীল সাহিত্য, চিত্রে দেশটি ছেয়ে গেলে সভ্যতার পতন ঘটে |

পতিতাবৃত্তিতে দেশটি ছেয়ে যায়। এরপর কিছুটা উন্নতি হলে বিবাহ, সতীত্ব ও চরিত্রের গুরুত্ব

শুরু হয়। পুরানে “পঞ্চকন্যা'দের জঘন্য চরিত্র সম্পর্কে নওমুসলিম আবুল হোসেন ভট্টাচার্য তার

দ্রৌপদী এরা চরিত্রহীনতার জন্য দেবী হয়েছে। নগ্ন অশ্লীল চিত্রে মন্দির ছেয়ে যায়। লিঙগপূজা,

যোনী পূজা শুরু হয়। এখন “শিবলিঙ্গ' পূজা প্রচলিত আছে। মন্দিরের ব্যভিচারের জন্য মেয়েদের

করে ফেলা হয়। এ সামাজে ভূত-প্রেত ডাইনি, তন্ত্র-মন্ত্র সহ অনেক আজগুবি মতামত চালু

উন্নত থাকলেও নারী জাতির অবমূল্যায়নের জন্য Moet থাকা সত্তেও সম্ভবত এত পিছিয়ে

হত। অর্থাৎ পিতার মৃত্যুর পর তার রেখে যাওয়াস্ত্রীপুত্রদের মধ্যে বন্টিত হত। বহু বিবাহ, যখন

ব্যাপার | মহান আল্লাহপাক তার এই সুন্দর সৃষ্টিকে জীবন্ত কবর দেয়ায় এত রাগান্বিত হন যে,

আখেরাতে তিনি মৃত শিশুকন্যার পিতার সাথে ঘৃণাভরে কথা না বলে বরং ফুলের মত মেয়েকে

জিজ্ঞাসা করবেন “যখন জীবন্ত প্রোথিত মেয়ের নিকট জিজ্ঞাসা করা হবে যে, সে কোন অপরাধে

নিহত হয়েছিল" (সূরা আত্‌্-তাকবির ৮-৯)। স্ত্ী-কন্যাকে বাজি রেখে জুয়া খেলত আরবরা ।

১৮)দর্ঘণ

আধুনিক ইউরোপ ও আমেরিকীয় সভ্যতা: ফরাসি শিল্প বিপ্রবের পর, চার্চের বিরুদ্ধে এবং নারী

স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু হয় । ফলে ধর্মীয় প্রভাব কমে গিয়ে নতুন সমাজ গঠিত হল।

যে সকল দৃষ্টিভঙ্গির উপর নতুন পাশ্চাত্য সমাজব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করা হল তা নিম্নরূপ ৩টি

শিরোনামে ব্যক্ত করা যায়-

২. নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা

পরিণতিতে সতীতৃ, পবিত্রতা, বিবাহের চাহিদা ক্রমান্বয়ে লোপ পেতে শুরু PAT | প্রায় প্রত্যেক

নারীই কর্মজীবী হল। পিতা ১৮ বছরের অধিক সন্তানের দায়িত্ব পালন করা (১৮ বছর পর্যন্ত

সরকারি স্কুলে ফি পড়ালেখা হয়) স্বামী স্ত্রীর ব্যয়ভার বহন করা থেকে অব্যাহতি পেয়ে যায় । যার

যার ব্যয় সে বহন করবে অর্থাৎ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সম-অধিকার। ব্যভিচার এত বৃদ্ধি পায়

যে, জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই জারজ সন্তান। (ডি.এন.এ টেস্ট করে পিতৃ পরিচয় বের করতে

হয়। নতুবা সন্তান পিতা চেনে At |) যৌন অশ্লীলতা, যৌনব্যাধি (সিফিলিস, প্রমেহ, এইডস,

যৌন অক্ষমতা), কিড্নাপ, ধর্ষণ, শিশু-নারী পাচার, গর্ভরোধ, গর্ভপাত, ভ্রুণ হত্যা, সমকামিতা

বেড়ে AT | এসবের কোন কোনটি আইন পাস করে জায়েজ করা হয়। পাবলিক স্কুলগুলোতে

জন্মনিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে অবাধ ফ্রি সেক্সের কারণে | তা সন্ত কর্মস্থানগুলোতে

মাঝেও অবৈধ যৌন সম্পর্ক বিচিত্র নয়। ২৬ এপ্রিল ২০০৮ “সাপ্তাহিক বাংলাদেশ” বাংলা

পত্রিকায় “পিতা-কন্যার মিলনে সন্তান! (৩৪ পৃ:) শিরোনামে অস্ট্রেলিয়ার টিভি সাক্ষাৎকারে এ

সংবাদ প্রকাশ করা VT | একই সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় ছবিসহ এক ব্যক্তির ৬০ স্ত্রী এবং শতাধিক

সন্তানেরও সচিত্র সংবাদ ছাপা হয় | ঘটনাটি ঘটে নারীবাদী, মানবাধিকার প্রচারকারী বিশ্ব মোড়ল

আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যের মধ্যেই। ১৩/১৪ বছরের মেয়েদের যৌন নির্যাতন, গর্ভধারণ, পুত্র

সন্তানদের শহরের বাইরে নিক্ষেপ করার মত ভয়াবহ খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তথাকথিত

মানবাধিকার বা নারীবাদী কর্মীরা এ ব্যাপারে নিশ্ুপ আছেন। পলিগ্যামি সম্প্রদায়ের জন্য

পুলিশি অভিযান সি.এন.এনসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সচিত্র দেখিয়েছে। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা

ও ম্যাগাজিনগুলোতে অহরহ এ ধরনের তথ্য ও ডাটা বেরুচ্ছে। এদের টিভি চ্যানেলগুলোতে

অশ্লীলতা যেন আরও উক্ষিয়ে দেয়া ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা চলে | চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ব্লুফিলা

ম্যাগাজিন সর্বত্র নারী দেহের নগ্ন প্রদর্শনী করেও এদের তৃপ্তি AZ | ইদানীং বিভিন্ন কনফারেন্স

করে (বেইজিং কায়রো) নারীর অধিকার তথা অধিকতর অবমূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ

করা হচ্ছে। PAS প্রভুদেশের দেখাদেখি আমাদের প্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর কিছুসংখ্যক

“নারীবাদী সংগঠন' তারস্বরে চিতকার করছে। বাংলাদেশে কয়েক বছর পূর্বে কিছু প্রতিবাদী নারী

ঘর" । রাস্তাঘাটে পুলিশের সাথে হাতাহাতি, ধস্তাধস্তি, এসব আন্দোলনকারীদের সাধারণ চিত্র।

সম্প্রতি সম্পত্তিতে সমঅধিকারের নামে এবং কোরআন বিরোধী আন্দোলন করছে। দেখা গেছে

GE আন্দোলনকারীদের অধিকাংশের ধর্ম-কর্ম নেই। উচ্ছুংখল, বাউণ্ডেলে জীবন, স্বামী-

সংসারের বালাই নেই, এ হল ইসলাম বিরোধীদের অবস্থা | অন্যদিকে দেখুন-

দর্পণ ১৯

ইসলাম তথা রাসূল (সা.) প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে আইয়ামে জাহেলিয়ার (অন্ধকার) যুগে

নারীকে এত মর্যাদা ও অধিকার দিয়েছিলেন যে, বিশ্ব সভ্যতা দেড় হাজার বছর ধরে কি করে তা

সম্ভব হল, তা আজও বুঝে উঠতে পারছে AT | সংক্ষিপ্ত কলেবরে তা লিখে শেষ করাও সম্ভব AT |

নারীর অধিকার বলতে প্রথমেই আসে অর্থনৈতিক অধিকার ও মর্যাদা

ভরণপোষণ: পরিবারের সক্ষম পুরুষেরাই প্রধানত, মা-বোন, স্ত্রী, কন্যা এবং অন্যান্য সদস্যদের

ভরণপোষণ করবে সন্তুষ্ট চিত্তে।

অম্প্তিতে অধিকার: নারীর জন্য পিতা ও স্বামীর সম্পত্তিতে নির্ধারিত অংশ রয়েছে। “নারীদের

রয়েছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নির্ধারিত wer’ (সূরা নিসা-৪)। সূরা নিসায় নারীর সম্পত্তির

উত্তরাধিকারী অংশ বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। এ সূরার আলোকে নিম্নে নারীর সম্পদ প্রাপ্তির

হিসেব দেয়া গেল:

* মৃত ব্যক্তির পুত্র কন্য উভয় থাকলে পুত্রের অর্ধেক অংশ পাবে FAT |

* মৃত ব্যক্তির পুত্র না থাকলে এবং ২ এর অধিক কন্যা থাকলে সকলে মিলে পাবে দুই তৃতীয়াংশ

সম্পদ।

* মৃত ব্যক্তির শুধু ১টি কন্যা থাকলে পাবে অর্ধেক সম্পদ।

* মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে মা-বাব মিলে পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ সম্পদ |

* মৃত ব্যক্তির সন্তান না থাকলে এবং বাবা জীবিত থাকলে মা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ

সম্পদ।

* মৃত ব্যক্তির সন্তান ও মা-বাবা না থাকলে যদি ১ ভাই, ১ বোন থাকে তবে প্রত্যেকে পাবে ছয়

ভাগের এক ভাগ সম্পদ |

* মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভাইবোন বেশি হলে সকলে মিলে পাবে তিন ভাগের এক ভাগ সম্পদ।

* মৃত ব্যক্তি যদি নিঃসন্তান হয় এবং তার ১ বোন থাকে সে পাবে অর্ধেক সম্পদ।

* মৃত ব্যক্তি নিঃসন্তান হলে এবং তার ২ বোন থাকে তারা পাবে সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ

সম্পদ।

* মৃত ব্যক্তি নিঃসন্তান হলে এবং তার ভাইবোন বেশি হলে ভাই বোন সম্পত্তির অর্ধেক সম্পদ

পাবে।

* মৃত ব্যক্তির নিঃসন্তান হলে তার স্ত্রী পাবে ৪/১ অংশ সম্পদ।

এ সমস্ত সম্পদে প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ সবই নারী পাবে | তবে মৃতের খণ ও অসিয়ত থাকলে

তা পূরণ করতে হবে আগে |

বিবাহ বৈধ হবে না | তবে স্ত্রী কিছু অংশ মাফ করে দিলে ভিন্ন কথা | আল্লাহপাক পবিত্র কোরআনে

বলেন, “তোমরা সন্তটচিত্ত স্ত্রীগণকে তাদের প্রাপ্য মোহর দিয়ে দাও" (সূরা নিসা:৪)।

স্বাধীন অর্থ-উপার্জন: নারী তার যোগ্যতানুযায়ী স্বাধীন ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজ-কর্ম করে

অর্থোপার্জন করতে পারবে | এতে পুরুষের অধিকার নেই | তবে স্ত্রী দিলে সানন্দে গ্রহণ করতে

পারবে | অর্থনৈতিক অধিকারের কারণে স্বাভাবিকভাবেই নারীর মর্যাদাও বৃদ্ধি AT |

1

Qe [1

সামাজিক অধিকার ও মর্যাদা: সামাজিক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমগোত্রীয়। পবিত্র কোরআনে

আল্লাহ পাক বলেন “তোমাদের সকলকে আল্লাহ তায়ালা একজন মানুষ হতেই সৃষ্টি করেছেন

এবং তা হতেই তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনই পার্থক্য

নেই'। (সূরা নিসা:১) ইসলামে নিষিদ্ধ গন্দম ফল খাওয়ার ব্যাপারে শুধু বিবি হাওয়াকেই দায়ী

করা হয়নি বরং আদম (আ:)কেও দায়ী করা হয়েছে। বলা হয়েছে- “অতঃপর শয়তান আদম

ও তদীয় ARCH প্ররোচিত করল যেন তাদের যে অংশ আচ্ছাদিত ছিল তা তারা উন্মুক্ত করে।'

অংশ প্রকাশ হয়ে ASAT’ | (সূরা আরাফ: ২২)

একজন নারী প্রধানত জীবনের ৪টি পর্যায় অতিক্রম করে, প্রতিটি পর্যায়ে তার অধিকার ও

হাদি eee পুরুষের চেয়ে বেশি মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ৪টি

মাঃ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা) বলেছেন, “আল্লাহ ও রাসূলের পরে সবচেয়ে অধিক সম্মান, মর্যাদা

ও সদ্ব্যবহার পাবার যোগ্য ASN | একব্যক্তি Halt পাবার অধিকার কার বেশি? প্রশ্ন করলে

রাসূল (সা) পরপর ৩ বার মাতার কথা উল্লেখ করে ৪র্থ বার পিতার কথা উল্লেখ করেন। অর্থাৎ

মা ৪ পিতা = ৩ $১। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত কথাটি অনেকেই জানেন। “মাতার

অবাধ্যতা ও অধিকারহরণ আল্লাহ্তায়ালা তোমাদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন (বুখারী) বলে

রাসূল (সা:) সতর্ক করেছেন। কোরআন পাকে আল্লাহ মাতা-পিতার অধিকার সম্পর্কে বহু স্থানে

মাতা কষ্টের পর কষ্ট সহ্য করে তাকে গর্ভেধারণ করেছেন। দু'বছর পর্যন্ত GA দান করেছেন

(লোকমান: ১৪)। সূরা আহকাফের SCAR আয়াতে প্রায় একই ধরণের কথা বলা হয়েছে। বনি

ইসরাইলে ২৩-২৪ নং আয়াতে উত্তম আচরণ, মার্জিত ভাবে কথা বলতে বলেছেন, ধমক দিতে

বা বিরক্তি প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন। মা-বাবার জন্য মৃত্যুর পরও দোয়া করতে শিখিয়ে

দিয়েছেন। সূরা নিসার ৩৬নং আয়াতেও উত্তম আচরণ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আনকাবুত

৮, নুহ-২৮ এ মা-বাবা সম্পর্কে উল্লেখ আছে। বন্তত মা'র সন্তষ্টি-অসন্তষ্টির মধ্যেই নিহিত

রয়েছে সন্তানের জান্নাত-জাহান্নাম।

স্ত্রী: যে যুগে নারীর কোন মূল্যই ছিল না সে যুগে রাসূল (সা) নারীদের এত সম্মান ও মর্যাদা

দেন যে “নারী গৃহের নারী'তে পরিণত হল। তিনি বলেন, নারী স্বামী গৃহের পরিচালিকা এবং

এই শাসন পরিচালনার জন্য তাকে জবাবদিহি করতে হবে' (বুখারী)। তিনি আরও বলেন,

“দুনিয়ার নিয়ামত সমূহের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট নিয়ামত হল HT A’ (নাসায়ী)। অন্যত্র বলা হয়েছে:

“তোমাদের মধ্যে তারাই উতৎৃষট ব্যক্তি যারা তাদের স্ত্রীর নিকটে উৎকৃষ্ট এবং যারা আপন পরিবার

পরিজনের সাথে শ্রেহশীল ব্যবহার করে' (হোদীস)। বিদায় হজের ভাষণেও তিনি বলেছেন,

তোমরা স্ত্রী লোকের ব্যাপারে আল্লাহকে অবশ্যই ভয় করে চলবে' | কোরআনে আল্লাহ তায়ালা

নারী পুরুষকে পরস্পরের পরিপূরক বলেছেন- “তারা তোমাদের ভূষণস্বরূপ এবং তোমরা তাদের

ভূষণস্বরূপ' (বাকারা: ১৮৭)। অন্যত্র “তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য হতেই জোড়া

বানিয়েছেন যাতে তোমরা শান্তি লাভ করতে পার এবং তোমাদের মধ্যে ভালবাসা ও করুণার

সঞ্চার করে দিয়েছেন' (সূরা রোম: ২১)। যে ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীর নিকট ভাল নয় সে ভাল মুসলমান

হতে পারে না। রাসূল (সা) উম্মুল মুমেনিনা খাদিজা (রা), আয়েশা (রো), উম্মে সালমা (রো)সহ

মতামত গ্রহণ করেছেন বলে তার জীবনীতে জানা যায়। কুমারী স্ত্রী আয়েশা (রা) কে

খুশি করার জন্য ছোট মেয়েদের সাথে খেলতে দিতেন। মদীনায় হাবশী বাদকদল আসলে তিনি

দর্পণ|২১

নবীজীর কাধে ভর করে দফ বাজনা উপভোগ করেছেন, উভয়ে দৌড় প্রতিযোগিতা করেছেন।

প্রত্যেক স্ত্রীর সাথেই তীর মধুর সম্পর্ক ছিল। হযরত উমর (রো) খলিফা থাকাকালীন বহু নারী

কন্যা: কন্যাকে যেখানে জীবিত কবর দেয়া হত, সেখানে রাসূল (সা) কন্যাকে খুবই যত্রসহ

প্রতিপালন ও CR মমতা করতে বলেছেন। তিনি বলেন, “যদি কারও কন্যা-সন্তান জনুখহণ

করে এবং সে তাদের প্রতিপালন করে, তাহলে তারা তার জন্য দোজখের প্রতিবন্ধক হবে"

(নাসায়ী)। অন্যত্র বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি তার দুই বা তিনটি কন্যাকে সাবালক হওয়া পর্যন্ত

প্রতিপালন করে, তাহলে সে ব্যক্তি ও আমি কিয়ামতে এমনভাবে একত্রে আবস্থান করব যেন

আমার দুটি অঙ্গুলি একত্রে আছে" (মুসলিম)। সাবালিকা কন্যাকে তার ইচ্ছা বা অনুমতি ব্যতীত

হয়" (হাদীস)। রাসূল (সা) স্বয়ং কন্যাদের অত্যন্ত CHR করতেন। বিৰি ফাতিমা (রো)কে তিনি

কোথাও যাওয়ার পূর্বে এবং এসে প্রথমেই দেখে নিতেন। কুমারী পবিত্র নারী সম্পর্কে কেউ মিথ্যা

অপবাদ দিলে তাকে বেত্রাঘাত করার নির্দেশ রয়েছে ইসলামে |

বোন: পিতার অবর্তমানে বা অক্ষমতায় ভ্রাতা-ভগ্নিদের দেখাশুনা করতে বাধ্য থাকবে। সাহাবী

হযরত জাবির (রা) বয়স্কা মহিলা বিবাহ করেছিলেন পিতৃহীনবোনদের দেখাশোনার সুবিধার্থে।

রাসূল (সা) জানিয়েছেন, বোনদের বিশেষ করে তালাকপ্রাপ্তা, বিধবা, সঃস্যাপ্রস্তদের দেখাশুনা

করায় অফুরন্ত সওয়াব নিহিত রয়েছে।

এরা ব্যতীত পরিবারের নির্ভরশীল অন্যান্য মহিলাদের প্রতিও ভরণ-পোষণ ও সদয় আচরণ

করতে বলা হয়েছে ইসলামে |

শিক্ষা: ইসলামে শিক্ষা বা জ্ঞানর্জন নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক করে

দিয়েছে। “Sprenger ইলমে ফারিদ্বাতুন আলা কুল্লি মুসলিমুন ওয়া মুসলিমাহ্‌* অর্থাৎ নারী পুরুষ

উভয়ের জন্য জ্ঞানার্জন করা FAT | সম্ভবত এই হাদীসটি প্রায় প্রত্যেক মুসলমানই জানেন।

তবে সেই শিক্ষা যেন শরীয়তের সীমালঙ্ঘন না করে। রাসূল (সা) নিজেও সপ্তাহে একদিন

যেতেন। সে যুগের নারীদের অনেকই উচ্চশিক্ষিতা ছিলেন । উম্মুল মুমেনিন প্রায় প্রত্যেকের

ঘরেই শিক্ষাদানের ব্যবস্থা ছিল। বিবি আয়েশা রো)র কাছে শুধু নারীরাই নয় নামকরা সাহাবী,

তাবেয়ীগণ তীর কাছে তাফসীর, হাদীস ফিকাহশান্ত্র শিখতেন। রাসূল (সা) এর যুগে মহিলা

কবি ছিলেন। তখন ৩ জন সুশিক্ষিকা নারী ছিলেন তারা প্রত্যেকেই ইসলাম করুল করেছিলেন।

অন্যেরাও শিক্ষিত হয়ে ইসলাম ধর্ম শুধু কবুলই করেননি স্বামী-সন্তানদের দান, জিহাদ, বিভিন্ন

প্রকারে কোরবানি করতে উদ্ুদ্ধ করতেন। হযরত তালহা (রা), হযরহত আবু দারদা (রা)দের

স্ত্রীদের বিশেষ দানের নজির রয়েছে। খানসা (রা) চারজন পুত্রসন্তানকে হযরত আবু বকরের

সময় রিদ্দার যুদ্ধে প্রেরণ করেছিলেন। তিনি নিজেও যুদ্ধ করেছিলেন। জনৈক আনসারী মহিলার

“ওহুদ যুদ্ধে' পিতা, স্বামী, ছেলে, ভ্রাতার শহীদানের সংবাদ একই সাথে পাওয়ার পরও “রাসূল

(সা) জীবিত আছেন" এই সংবাদ পেয়ে আল্লাহ্‌র শুকরিয়া আদায় করেছেন। সে যুগের নারীদের

এরকম বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এমনই ছিল সে যুগের শিক্ষা প্রকৃতপক্ষে নারী জাতির সঠিক

শিক্ষা ব্যতীত একটি দেশ বা জাতির উন্নয়ন কিছুতেই সম্ভবপর নয়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে

নবীগণ ধর্মীয় নৈতিক ও আর্থিক ভাবে যে সহায়তা করেছেন তা অবিস্মরণীয় | ইসলামের প্রথম

২২|দর্পণ

মুসলিম ও প্রথম শহীদ ছিলেন মহিলা । প্রথম মুসলিম ছিলেন বিবি খাদিজা (রা) এবং প্রথম

শহীদ ছিলেন হযরত সুমাইয়া (রা)। পবিত্র কোরআনের বহু আয়াত নারীকে CY করে নাধিল

হয়েছে। নিসা সূরাটির সূচনা নারীকে কেন্দ্র করে, নিসা শব্দের অর্থও নারী । উম্মুল মুমেনিনা বিবি

আয়েশা (রা)কে কেন্দ্র করে “অপবাদ' ও “তায়াম্মুমের' মত গুরুত্বপূর্ণ আয়াত নাযিল হয়েছে।

উম্মুল মুমিনিনা হযরত জয়নব (রা)কে উপলক্ষ করে ‘teen’ “তালাকের বিধান" অবতীর্ণ হয়।

মুমিনিনা খাদিজা (রো)কে স্বয়ং আল্লাহপাক ও জ্বাইল ফেরেস্তা সালাম দিয়েছেন। আয়েশা

(রা)র ঘরে অহি অবতীর্ণ হয়েছে। হযরত মরিয়ম (রা)এর চরিত্রের পবিত্রতা ঘোষণা করে সূরা

সুস্পষ্ট হয়েছে।

রাজনৈতিক: ইসলামে নারীদের স্বাধীন মতামত প্রকাশের (বর্তমান যুগে স্বাধীন ভোটপ্রদান)

অনুমতি রয়েছে। রাসূল (সা:) স্বয়ং নারীদের মতামত জানতে চাইতেন। “হুদাইবিয়ার সন্ধি

কালীন সময়ে রাসূল (সা:) সাহাবা ও মক্কার কোরেশ কাফেরদের মধ্যে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি

হলে উম্মুল মুমিনিনা উম্মে সালমার পরামর্শে সহজভাবে সমাধা হয়েছে। এজন্যে বিশ্বমুসলিম

চিরকাল তার কাছে খণী থাকবে । সে যুগের মহিলাগণ যুদ্ধের মাঠে যুদ্ধাহত সৈন্যদের সেবা-

CAAT করতেন। পানি পান করাতেন। হযরত উমরের (রা:) সময় তার বোনসহ অনেক নারী যুদ্ধ

করেছিলেন বলে জানা যায়। হযরত আয়েশা (রো) BAA যুদ্ধে TOP দেন। অবশ্য সেজন্যে

তিনি বাকী জীবন দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন | অতএব ইসলাম মহিলা নেতৃত পছন্দ করে না।

২. বিধবা-তালাকপ্রাপ্তা নারীর পুনগ্বিবাহের অনুমতি |

৩. দেওয়ানি, ফৌজদারি আইনে ধন-প্রাণ ও মান-সম্মান নিরাপত্তার ব্যাপারে নারী-পুরুষের

মধ্যে পূর্ণ সমতা রাখা হয়েছে। তাইতো নেপোলিয়ান বলেছিলেন, আমাকে একটি শিক্ষিত

মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার fra | সত্যিই আমাদের মুরুব্বি দাদী-নানীগণ

কর্মশিক্ষিতা হয়েও আমাদের যেভাবে আল্লাহ্ভীতি বা তাক্ওয়া শিক্ষা দিতেন বর্তমানে

উচ্চশিক্ষিতা মায়েরা তা শিখাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এটাই হচ্ছে ইসলাম শিক্ষা ও বস্তুগত

শিক্ষার পার্থক্য । রাষট্রবিজ্ঞানে পরিবারকে প্রাথমিক বিদ্যালয় বলা হয়। প্রকৃতপক্ষে একজন

আদর্শ মা পারেন আদর্শ সন্তান গঠন করতে |

ধর্মীয়: এক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সমমানের | তবে তাক্ওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে অতিক্রম করতে

এবং নারী যেমন কার্য করবে ঠিক তেমন তার ফল লাভ করবে" (সূরা নিসা: ৩২)। অন্যত্র “এবং

যে কেউই উৎকৃষ্ট আমল করবে সে স্ত্রীলোক হোক বা পুরুষ হোক, কিন্তু সে যদি ঈমানদার হয়

তাহলে এই ধরনের লোক বেহেস্তে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি তিল পরিমাণ অন্যায় করা

হবে না' (সূরা নিসা: ১২৪)। আলে ইমরান ১৯৫ নং আয়াতে একই কথার সমর্থন রয়েছে।

ইসলামে মুসলিমের সাথে কাফির নারী বা পুরুষের সাথে বিবাহ বৈধ নয় | মুনাফিক পুরুষ-নারী

এবং ঈমানদার নারী-পুরুষ সমগোত্রের বলা হয়েছে।

কোরআন বলে “মুনাফিক পুরুষ ও নারী পরস্পরের দোসর | এরা খারাপ কাজের হুকুম দেয়,

ভাল কাজে নিষেধ করে এবং কল্যাণ থেকে নিজেদের হাত গুটিয়ে রাখে' (তওবা: ৬৭)। অন্যত্র

“মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, এরা সকলে পরস্পরের বন্ধু ও সহযোগী, এরা ভাল কাজের হুকুম

দর্পণ|২৩

দেয় এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে” (তওবা:৭১)। রাসূল (সা)-এর যুগে নারীরা দ্বীন

পালন, প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় অভাবনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যা স্বল্প পরিসরে লিখে শেষ করা

যাবে না।

একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, তাহল- অনেকের কাছেই নারী-পুরুষের কর্তৃত এবং সম্পত্তি

উত্তরাধিকারী আইনটি সম্পর্কে পরিষ্কার জ্ঞান বা ধারণা না থাকায় অনেক সময় ভুল বুঝাবুঝির

সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে ইসলাম বলে 'পুরুষ নারীর কর্তা। এজন্য যে, আল্লাহ তাদের একজনকে

অন্যজনের উপর শ্রেষ্ঠতৃ দান করেছেন এবং এজন্যে যে, পুরুষ নিজের ধন-সম্পদ ব্যয় করে'

(নিসা: ৩৪)। আসলে পরিবারের শৃংখলা বিধানের জন্য। আল্লাহ্‌্পাক পুরুষকে শারীরিক ও

মানসিক শক্তি বেশি দিয়েছেন বলেই তার চরিত্রে নারী অপেক্ষা কঠোরতা, কষ্ট সহিষ্ণুতা বেশি।

অপরদিকে নারীর রয়েছে রূপ-লাবণ্য কোমলতা, শ্লেহ-মমতা, ভালাবাসায় পরিপূর্ণ দেহ-মন।

pega কঠিন দায়িতব সন্তানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা তার

কাজ। পুরুষকে সংসারের আর্থিক দায়িত পালন করতে হবে বিধায় সম্পত্তির উত্তরাধিকারী তারই

বেশি পাওয়া উচিত। নারী-পুরুষের যৌথ দায়িত্ব পালনেই পরিবার সুন্দর ও সুশৃংখল হয়। এতে

ভুল বুঝাবুঝির অবকাশ নেই। | ABI ভাল করেই জানেন তীর সৃষ্টি কিভাবে সুখী ও সুন্দর হবে।

বর্তমানে ইসলাম সমাজ তথা রাসূল (সা:) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নারীর অধিকার ও মর্যাদা পূর্ণরূপে

বিরাজ না থাকায় পৃথিবীর সর্বত্র এত অশাস্তি ও অস্থিরতা! নারী হচ্ছে রুক্ষ, যৌন Ree,

ব্যবসায়িক পণ্য | হারাচ্ছে তার অধিকার, মর্যাদা, সম্মান, নিরাপত্তা ও আশ্রয়স্থল | তার সতীত্ব,

NPY, ভালবাসা তথা নারীতের মূল্য কমে যাচ্ছে। সমাজ হারাচ্ছে মায়ের স্রেহ-মমতা,

দোয়া, স্ত্রীর অকৃত্রিম ভালবাসা ও বিশ্বাস। বোনের আদর মমতা, কন্যার আদর-সোহাগ, ভক্তি

ভালবাসা। শ্লেহ-ভালবাসাহীন ধূসর পৃথিবীতে সামাজিক অপরাধ বন্যার গতিতে বেড়ে যাচ্ছে।

অবোধ শিশুরা, টিনএজাররা হতাশ, মানসিক বিকারগ্রস্ত, মাদকনেশী, যৌন বিকৃতি ও সন্ত্রাসে

জড়িয়ে পড়ছে। ঘর-সংসারবিহীন দায়িত কর্তৃতৃহীন বহু পুরুষ যৌন লাম্পট্য, ধর্ষণ, খুন, সন্ত্রাসে

নিমজ্জিত। বৃদ্ধরা নার্সিংহোমে হাহাকার করছে। আত্মহত্যা, যৌনরোগ, মানসিক রোগ ছাড়াও

হাইপারটেনশন, হার্ট আ্যাটাকসহ বিচিত্র রোগ দিনদিন বাড়ছে। এসিড নিক্ষেপ, নারী-শিশু

পাচার, অস্ত্রের ঝনঝনানি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সন্ত্রাস, যুদ্ধ নানাবিধ সমস্যা সমাধানের

লক্ষ্যে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, আলোচনা-গবেষণার অন্তঃ নেই। অন্যদিকে স্বামী সন্তান বিহীন

নারীরা রূপ-যৌবনের নগ্ন ফেরি করতে FACT HT এ থেকে তারাও মুক্তি চাচ্ছে। এসব

অত্যাচার, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুকের অভিশাপ, সম্পত্তি বঞ্চিত নারীদের সমস্যা মিটানোর জন্য

“নারী মুক্তি আন্দোলন" কারীরা বিকৃত পন্থায় সমাধান চাচ্ছে। ফলে সমস্যার সমাধান তো দূরের

কথা সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।

অপরদিকে, আজও যেসব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী বিধান ও রাসূল (সা:)-এর প্রতিষ্ঠিত

মডেল চালু রয়েছে, সেখানে বিস্ময়কর সৌন্দর্যের মত সুখ-শান্তি, মায়া-মমতা, নারীর নিরাপত্তা,

সম্মান ও মর্যাদা সুপ্রতিষ্ঠিত।

পাশ্চাত্য দেশগুলোর মত যৌনরোগ বা অন্যান্য সামাজিক অপরাধ নেই বললেই চলে। নারীদের

স্বামী সন্তান, আত্মীয়রা তাদের প্রতি AWB, নারীরাও স্বামী সন্তানের প্রতি ABB | সুতরাং সগর্বে

আমরা বলতে পারি সমস্যা বিক্ষুব্ধ এ পৃথিবীকে আজও ইসলাম এবং রাসুল (সা:) কর্তৃক প্রবর্তিত

বিধানই পারে এ দুঃসহ অবস্থা থেকে মুক্ত করে অনাবিল শাস্তি ও সুখে ভরে দিতে | জনৈক খরষ্টান

মনীষী (সম্ভবত জর্জ বার্নাড শ) বলেছেন, আজও যদি পৃথিবীতে মুহম্মদ (সা:)এর TPH কায়েম

২৪] দর্পণ

হয় তবে পৃথিবী সুখে ভরে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। সমাজে ইসলামী শরিয়ত প্রতিষ্ঠিত

থাকলে মহান আল্লাহ পৃথিবীর বরকতের দুয়ার সমূহ খুলে দেয়ার ওয়াদা করেছেন।

এমতাবস্থায় হতাশ হয়ে আশা ছেড়ে দিয়ে বসে থাকলে আফগানিস্তান, ইরাকের মত খোদা না

করুন গজব এসে যেতে পারে | এক্ষেত্রে সমাজ পরিবর্তনের আশা করেন সেসব দায়িতৃরত নারী-

পুরুষের দায়িত্ব কর্তব্য দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে নিজেকে যোগ্য তৈরি করে পরিবারের

প্রত্যেক সদস্যদের এবং পাড়া-পড়শি, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব তথা সম্ভাব্য সকলকে দ্বীনের

দাওয়াত দিতে হবে। আল্লাহ্‌র রাসূল (সা) যে কাজের জন্যে এসেছিলেন, তা ছিল “তিনি আল্লাহ্‌

যিনি তীর রাসূলকে হিদায়েত ও সত্য জীবন ব্যবস্থাসহ পাঠিয়েছেন, যেন তিনি এ দ্বীনকে সমস্ত

বাতিল ব্যবস্থা সমূহের উপর বিজয়ী করেন' (ফাতাহ: ২৮)। সুতরাং সীসাঢালা প্রাটীরের ন্যায়

এক্যবদ্ধভাবে কাজ করে সকল মতাদর্শের উপর ইসলামী মতবাদকে বিজয়ী করার অপ্রাণ প্রচেষ্টা

চালিয়ে যেতে হবে। নারীর সত্যিকার অধিকার ও মর্যাদা তবেই পুনঃগ্রতিষ্ঠিত হবে, নারী পাবে

মুজি। পৃথিবী শাস্তি কল্যাণে পরিপূর্ণ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌। কোরআনের কথাতেই পুনরায়

বলছি 'আর আরেক জিনিস যা তোমরা আকাঙ্কা কর আল্লাহ্‌ তাও তোমাদের দিবেন, আল্লাহ্‌র

জা নালা

দান করো' (সূরা সফ: So) | আল্লাহ আমাদের সাহায্য করুন। ওমা তৌফিক ইল্লা বিল্লাহ্‌।

পর্দা ও ইসলাম: মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী

নানা ধর্মে নারী: মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

নারী মুক্তি আন্দোলন: শামসুনাহার নিযামী

আমি কেন ইসলাম গ্রহণ করলাম: আবুল হোসেন ভট্টাচার্য

দেবদাস: শরত্চন্্র চটোপাধ্যায়

09554805855

তাফহীমুল কোরআন: মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী

-আমেরিকার মুসলিম উম্মাহ নামক সংগঠনের অনুরোধে লেখা | যা উম্মাহ নামক ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়।

দর্পণ |২৫

Share
f𝕏W✉

Send a Comment

Your comment will be sent privately to the MCC Newsletter team and will not be published on the website.

Back to October issue

About this contribution

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত রচনা।

© Muslim Circle of Canada ·