সূরা জুমুয়া এবং মুসলিম কালচার
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِيَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰي ذِكْرِ اللّٰهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ؕ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ
হে মু’মিনগণ! জুমু’আর দিন যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর; এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলদ্ধি কর।(সূরা জুমুয়া,৬২:৯)
فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْاَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللّٰهِ وَاذْكُرُوا اللّٰهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও।(সূরা জুমুয়া,৬২:১০)
এখানে الْجُمُعَةِ শব্দ থেকে জুমুয়া নামকরণ করা হয়েছে। الْجُمُعَةِ মানে একত্রিত হওয়া জড়ো হয়। বাংলায় এই দিনকে বলা হয় শক্রবার এবং ইংরেজিতে এই দিনকে বলা হয় Friday। এই দিনে মুসলিমগন মসজিদে খুৎবা শোনার জন্য জড়ো হয়।
প্রাচীন অভিধানে এটাকে ইয়াওমুল আরূবাহ বলা হতো।(ইবনে কাসীর)। জুমুয়ার দিনের মর্যাদা সম্পর্কে হাদিসে রাসূল(স:) এ এসেছে,
وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَوَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ أَبِي مَالِكٍ، الأَشْجَعِيِّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَعَنْ رِبْعِيِّ بْنِ حِرَاشٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالاَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَضَلَّ اللَّهُ عَنِ الْجُمُعَةِ مَنْ كَانَ قَبْلَنَا فَكَانَ لِلْيَهُودِ يَوْمُ السَّبْتِ وَكَانَ لِلنَّصَارَى يَوْمُ الأَحَدِ فَجَاءَ اللَّهُ بِنَا فَهَدَانَا اللَّهُ لِيَوْمِ الْجُمُعَةِ فَجَعَلَ الْجُمُعَةَ وَالسَّبْتَ وَالأَحَدَ وَكَذَلِكَ هُمْ تَبَعٌ لَنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَحْنُ الآخِرُونَ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا وَالأَوَّلُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الْمَقْضِيُّ لَهُمْ قَبْلَ الْخَلاَئِقِ " . وَفِي رِوَايَةِ وَاصِلٍ الْمَقْضِيُّ بَيْنَهُمْ .
বর্ণনাকারী: আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ)
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে জুমার দিন সম্পর্কে সঠিক পথের সন্ধান দেননি বিরোধে লিপ্ত হওয়ার কারণে। তাই ইহুদীদের জন্য শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য রবিবার জুমা নির্ধারিত হয়েছে। আল্লাহ আমাদেরকে (পৃথিবীতে) আনলেন এবং আমাদেরকে জুমার দিনের সঠিক সন্ধান দিলেন। অতএব তিনি জুমার দিন, শনিবার ও রবিবার এভাবে (বিন্যাস) করলেন, এভাবে তারা কেয়ামতের দিন আমাদের পশ্চাদবর্তী হবে। আমরা পৃথিবীবাসীর মধ্যে শেষে আগমনকারী উম্মত এবং কেয়ামতের দিন হব সর্বপ্রথম, যাদের সমগ্র সৃষ্টির সর্বপ্রথম বিচার অনুষ্ঠিত হবে। অধস্তন বর্ণনাকারী ওয়াসিল (রাঃ)-এর বর্ণনায় আছে “সকলের মধ্যে”।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৬৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন:
“কাজী (রহ.) বলেছেন: এর বাহ্যিক অর্থ হলো, তাদের জন্য শুক্রবারকে সম্মান করা আবশ্যক ছিল; কিন্তু বিষয়টি তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়নি। বরং বিষয়টি তাদের নিজস্ব বিবেচনা ও চিন্তাভাবনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সঠিকভাবে বিষয়টি অনুধাবন করতে পারেনি এবং আল্লাহও তাদেরকে এর সঠিক পথনির্দেশ দেননি। পক্ষান্তরে, এই উম্মতের ওপর শুক্রবারের ব্যাপারটি সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এভাবেই তারা এই বিশেষ নিয়ামত লাভ করেছে।
বর্ণিত হয়েছে যে, মূসা (আ.) তাদের জন্য শুক্রবার নির্ধারণ করেছিলেন এবং তাদেরকে এর ফজিলত সম্পর্কে জানিয়েছিলেন। কিন্তু তারা তাঁর সঙ্গে মতবিরোধ করল এবং বিতর্ক করে বলল যে, শনিবারই উত্তম। তখন তাঁকে বলা হলো, ‘তাদেরকে ছেড়ে দাও।’
কাজী (রহ.) বলেছেন, যদি তাদের প্রতি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে মূসা (আ.)-এর সঙ্গে তাদের বিতর্ক করার কোনো সুযোগ থাকত না। বরং তাদেরকে বলা হতো যে, তারা নির্দেশের বিরোধিতা করছে।
আমি (ইমাম নববী) বলি, এমনও হতে পারে যে, তাদের প্রতি শুক্রবারের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু তারা এ বিষয়ে মতবিরোধ করেছিল যে, এটি কি তাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে, নাকি তারা এর পরিবর্তে অন্য কোনো দিন গ্রহণ করতে পারবে। শেষ পর্যন্ত তারা অন্য একটি দিন গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিল এবং এর মাধ্যমে তারা মারাত্মক ভুল করল।”
এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, শুক্রবার তাদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা এর বিরোধিতা করেছিল।
হাফিজ ইবনু হাজার (রহ.) বলেছেন:
“এটি কীভাবে অন্যথা হতে পারে, যখন তারাই বলেছিল, ‘আমরা শুনলাম এবং অবাধ্য হলাম’?”(তথ্যসূত্র: Islamqa.info)
এই জুমার দিনেই আল্লাহ তায়ালা আদম(আ:) কে সৃষ্টি করেন এবং সৃষ্টির কাজ সমাপ্ত করেন।
وَعَنْهُ قَالَ: أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدَيَّ فَقَالَ: «خلق الله الْبَريَّة يَوْمَ السَّبْتِ وَخَلَقَ فِيهَا الْجِبَالَ يَوْمَ الْأَحَدِ وَخلق الشّجر يَوْم الِاثْنَيْنِ وَخلق الْمَكْرُوه يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ وَخَلَقَ النُّورَ يَوْمَ الْأَرْبِعَاءِ وَبَثَّ فِيهَا الدَّوَابَّ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَخَلَقَ آدَمَ بَعْدَ الْعَصْرِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فِي آخِرِ الْخَلْقِ وَآخِرِ سَاعَةٍ مِنَ النَّهَارِ فِيمَا بَيْنَ الْعَصْرِ إِلى اللَّيْل» . رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (27 / 2789)، (7054) ۔ (صَحِيح)
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ধরে বললেন, আল্লাহ তা'আলা জমিন সৃষ্টি করেছেন শনিবারে, পাহাড়-পর্বত সৃষ্টি করেছেন রবিবারে, গাছ-গাছালি সৃষ্টি করেছেন সোমবারে, খারাপ জিনিসসমূহ বানিয়েছেন মঙ্গলবারে, আলো বা জ্যোতি সৃষ্টি করেছেন বুধবারে, জীবজন্তু ও প্রাণিজগৎকে সৃষ্টি করে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন বৃহস্পতিবারে, আর আদাম (আঃ) কে সৃষ্টি করেছেন জুমু'আর দিন ‘আসরের সময়ের পরে। মূলত এটাই সর্বশেষ সৃষ্টি, দিনের শেষ সময়েই সৃষ্টি করেছেন। অর্থাৎ ‘আস্র ও রাত্রির মধ্যবর্তী সময়ে।
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস নং ৫৭৩৪-[৩৭]
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
এই দিনেই হবে কিয়ামত।
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُدْخِلَ الْجَنَّةَ وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا وَلاَ تَقُومُ السَّاعَةُ إِلاَّ فِي يَوْمِ الْجُمُعَةِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেনঃ সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন সর্বোত্তম। এ দিন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিন সেখান থেকে তাঁকে বের করে দেয়া হয়েছে, জুমার দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৬২
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ " . فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ - يَعْنِي بَلِيتَ - . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ " .
বর্ণনাকারী: আওস বিন আওস (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিন হলো জুমু‘আর দিন। এ দিন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিন শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং তাতে বিকট শব্দ হবে। অতএব তোমরা এ দিন আমার উপর প্রচুর পরিমাণে দরূদ পাঠ করো। তোমাদের দরূদ অবশ্যই আমার নিকট পেশ করা হয়। এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে আমাদের দরূদ আপনার নিকট পেশ করা হবে, অথচ আপনি তো অচিরেই মাটির সাথে একাকার হয়ে যাবেন? তিনি বলেন, আল্লাহ নবীগণের দেহ ভক্ষণ মাটির জন্য হারাম করেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৮৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন:
“কাজী ‘ইয়াদ (রহ.) বলেছেন: বাহ্যিক অর্থ হলো, এসব ফজিলতের অর্থ এই নয় যে, শুক্রবারকে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী করা হয়েছে শুধুমাত্র এ কারণে যে, শুক্রবারে আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং শুক্রবারেই কিয়ামত সংঘটিত হবে। বরং এর উদ্দেশ্য হলো—এই দিনে অতীতে কী কী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী কী গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হবে, তা তুলে ধরা; যাতে মানুষ এই দিনটির যথাযথ সদ্ব্যবহার করে নেক আমল করতে পারে, আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারে এবং তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচতে পারে।
এটি কাজী ‘ইয়াদের মত।
আবু বকর ইবনুল আরাবী তাঁর ‘আল-আহওয়াযী ফি শারহিত তিরমিজি’ গ্রন্থে বলেছেন: এসব ঘটনাই ভালো এবং এগুলো শুক্রবারের ফজিলত আরও বৃদ্ধি করে। আদম (আ.)-কে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া তাঁর বংশধর, রাসূলগণ, নবীগণ, নেককার ব্যক্তিবর্গ এবং আল্লাহর ওলিদের অস্তিত্ব লাভের কারণ। তাঁকে শুধু শাস্তিস্বরূপ জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়নি; বরং এর পেছনে একটি উদ্দেশ্য ছিল। এরপর তিনি আবার জান্নাতে ফিরে যাবেন।
আর শুক্রবারে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার কারণ হলো—নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ মুমিনগণ, আল্লাহর ওলিগণ এবং অন্যান্যদের পুরস্কার দ্রুত প্রদান করা হবে এবং তাঁদের সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা প্রকাশ করা হবে।
এই হাদিস শুক্রবারের ফজিলত এবং অন্যান্য দিনের তুলনায় এর উচ্চ মর্যাদা প্রমাণ করে।”(source: Islamqa.info)
এই সূরায় জুমার দিনে মুসলিমদেরকে বলা হয়েছে নামাজের সময় যেন কেনা-বেচা বন্ধ করা হয়। তবে নামাজ শেষে আবার কেনা-বেচা করতে অসুবিধা নেই বরং উত্তম। আমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের সময়(ইহুদী) এই বিধান আরো কঠিন ছিল। তাদের জন্য পুরো শনিবারের দিন ই সব ধরনের কেনা বেচা, ব্যবসা বানিজ্য, দুনিয়াবী কাজ বন্ধ ছিল এবং শুধুমাত্র তারা ঐদিন আল্লাহর ইবাদাত করবে। আর সেদিন ছিল শনিবার। কিন্তু তারা শনিবারের সেই বিধানটি লঙ্ঘন করে। এই ব্যাপারে এসেছে বিস্তারিত এসেছে সূরা আরাফের ১৬৩-১৬৬ নং আয়াতে,
وَسْـَٔلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِيْ كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ ۘ اِذْ يَعْدُوْنَ فِي السَّبْتِ اِذْ تَاْتِيْهِمْ حِيْتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَّيَوْمَ لَا يَسْبِتُوْنَ ۙ لَا تَاْتِيْهِمْ ۚۛ كَذٰلِكَ ۚۛ نَبْلُوْهُمْ بِمَا كَانُوْا يَفْسُقُوْنَ
আর তাদেরকে সেই জনপদের অবস্থাও জিজ্ঞেস কর যা সমুদ্রের তীরে অবস্থিত ছিল। যখন তারা শনিবারের আদেশ লংঘন করেছিল। শনিবার উদযাপনের দিন মাছ পানিতে ভেসে তাদের নিকট আসত, কিন্তু যেদিন তারা শনিবার উদযাপন করতনা, সেদিন ওগুলি তাদের কাছে আসতনা, এভাবে আমি তাদের নাফরমানীর কারণে তাদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম।(সূরা আরাফ,৭:১৬৩)
وَاِذْ قَالَتْ اُمَّةٌ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُوْنَ قَوْمَࣘا ۙ اللّٰهُ مُهْلِكُهُمْ اَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيْدًا ؕ قَالُوْا مَعْذِرَةً اِلٰي رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُوْنَ
যখন তাদের একদল লোক অপর দলের নিকট বলেছিলঃ ঐ জাতিকে তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দিবেন? তারা উত্তরে বললঃ তোমাদের রবের নিকট দোষমুক্তির জন্য এবং এই আশা করছি যে, হয়তো তারা তাঁকে ভয় করবে।(সূরা আরাফ,৭: ১৬৪)
فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِهٖۤ اَنْجَيْنَا الَّذِيْنَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوْٓءِ وَاَخَذْنَا الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا بِعَذَابٍۭ بَئِيْسٍۭ بِمَا كَانُوْا يَفْسُقُوْنَ
তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয় তা যখন তারা বিস্মৃত হয় তখন যারা অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করত তাদেরকে আমি উদ্ধার করি, আর যালিমদেরকে তাদের অসৎ কর্মের কারণে কঠোর শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম।(সূরা আরাফ,৭:১৬৫)
فَلَمَّا عَتَوْا عَنْ مَّا نُهُوْا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُوْنُوْا قِرَدَةً خٰسِئِيْنَ
অতঃপর যখন তারা বেপরোয়াভাবে নিষিদ্ধ কাজগুলি করতে থাকল তখন আমি বললামঃ তোমরা ঘৃণিত ও লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।(সূরা আরাফ,৭:১৬৬)
অর্থাৎ, ইহুদীদেরকে আল্লাহ শনিবারে মাছ ধরতে নিষেধ করেন কারন সেদিন ছিল তাদের সপ্তাহিক ইবাদাতের দিন। কিন্তু সেদিন ই সমুদ্রের মাছ কিনারায় বেশী আসত। তাই তারা আল্লাহর সাথে কৌশল করল। তারা শনিবারে মাছ আটকে রাখত আর রবিবারে তা ধরত।
ফলে, শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ অবাধ্য ইহুদীদেরকে বানর বানিয়ে দেন এবং তাদের মধ্যে অসৎকাজে বাধাদানকারীদেরকে উদ্ধার করেন।
শাস্তি শুধু বানর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিলনা। ইহুদীদের একের পর এক অবাধ্যতার কারনে তাদের উপর শাস্তিস্বরূপ আল্লাহ তায়ালা কিয়ামত পর্যন্ত তাদেরকে অপদস্ত করার অঙ্গীকার করলেন পরের আয়াতে।
وَاِذْ تَاَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ اِلٰي يَوْمِ الْقِيٰمَةِ مَنْ يَّسُوْمُهُمْ سُوْٓءَ الْعَذَابِ ؕ اِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيْعُ الْعِقَابِ ۚۖ وَاِنَّهٗ لَغَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ
তোমার রাব্ব ঘোষণা করলেন যে, তিনি তাদের (ইয়াহুদীদের) উপর কিয়ামাত পর্যন্ত এমন সব লোককে শক্তিশালী করে প্রেরণ করতে থাকবেন যারা তাদেরকে কঠিনতর শাস্তি দিতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার রাব্ব শাস্তি দানে ক্ষিপ্র হস্ত, আর নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহশীল।(সূরা আরাফ,৭:১৬৭)
দেখুন, আমাদের মুসলিমদের মধ্যে এই স্বভাব রন্ধ্রে রন্ধ্রে আছে কিনা। আল্লাহ আমাদেরকে কোন কিছু হারাম করলে আমরা তা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিজেদের জন্য জায়েজ করে নিচ্ছি কিনা। আমাদেরকে যখন বিজাতীয় দিবস উদযাপন করতে নিষেধ করা হয় তখন আমরা নির্দিষ্ট দিনে না করে আগে পরে করছি কিনা, নাম পরিবর্তন করে করছি কিনা। সুদকে নাম দিচ্ছি মুনাফা, ঘুষকে নাম দিচ্ছি উপহার। আমরা যে নামেই করিনা কেন, যে দিনেই করিনা কেন, আল্লাহ প্রত্যেকের অন্তরের ব্যাপারে জানেন। আর কিয়ামতের দিন অন্তর যাচাই করা হবে।
যাই হোক, কোন জাতির উত্থান এবং পতন নির্ভর করে ঐ জাতিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে উপহার দেয়া বিশেষ দিনের সাথে কেমন আচরণ করে।
আজ মুসলিম রা কেন অন্যের পদানত তার অন্যতম একটি কারন হল আমরা জুমুয়ার দিনের সাথে কেমন আচরণ করি!
আমরা শতকরা কতজন মুসলিম জুমার সময় কেনাবেচা/চাকুরী বন্ধ রাখি?
মুসলিম সমাযে তাও জুমাবারে মুসল্লীর সংখ্যাটা দেখা যায় কিন্তু অমুসলিম সমাজে মুসলিমদের অবস্থা অত্যন্ত আশংকাজনক!
এর অন্যতম একটা কারন হল অমুসলিম সমাজে মুসলিম কালচার প্রতিষ্ঠিত(কায়েম) নয়। অমুসলিম সমাজে প্রধানত ইহুদী/খ্রিষ্টান ধর্মীয় কালচার প্রতিষ্ঠিত। যেমন, পশ্চিমায় শনিবার এবং রবিবার ছুটির দিন। অপরদিকে সকল মুসলিম দেশগুলোতে শক্রবার ছুটির দিন। যেহেতু সপ্তাহে ৩ দিন ছুটির দিন হবেনা, তাই পশ্চিমা সমাজে শক্রবার ছুটির দিন হবে এই সম্ভাবনা ০.০০০০০০০০০০০০০০০০০০৯ % যদিনা সেখানকার অধিকাংশ( more than 50%) মানুষ মুসলিম হয়ে যায়।
শুধু বড়রা নয়, অমুসলিম সমাজে বসবাসরত আমাদের মুসলিম সন্তানরা, যারা স্কুল,কলেজ বা ইউনিভার্সিটিতে পড়ে তাদের অবস্থাও চিন্তা করুন। বাচ্চাদের একাডেমিক পড়াশোনাও এক প্রকার কেনা বেচা। শিক্ষাদান মহৎ গুন হলেও এটাও একটা সার্ভিস। এখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের থেকে জ্ঞান ক্রয় করে যা একসময় সে কাজে লাগিয়ে ক্যারিয়ার গড়বে, জীবিকা অন্বেষণ করবে।
তারাও শক্রবার দিন জুম্মা পালনের জন্য ছুটি পায়না। তাই জুমাবারে মসজিদে বড়দেরকে দেখা গেলেও তরুন- -কিশোর-যুবক এদেরকে একদম ই দেখা যায়না। এসব কারনে পশ্চিমায় বড় হওয়া মুসলিম বাচ্চারা অনেক হীনমন্যতায় ভোগে। এবং তাদের কয়েক জেনারেশন পরেই তাদের অধিকাংশই ধর্মান্তরিত হয়ে যায়। তার বড় একটা কারন হল কালচারাল বৈষম্য এবং কালচারাল আইডেন্টিটি। এখনো গুটিকয়েক যাদেরকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে দেখা যায় তাদের পেছনে তাকালে দেখা যাবে তাদের ২/৩ পুরুষ আগের জেনারেশন মুসলিম ছিল যার কারনে ইসলামের প্রতি ছিঁটেফোঁটা টান তাদের মধ্যে দেখা যায়। তাছাড়া জাতিগতভাবে অমুসলিমদের থেকে খুব কম ই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পশ্চিমায়।
এটাই হল দারুল ইসলাম আর দারুল হারবের পার্থক্য।
তবে, অমুসলিম সমাজে ইসলামী কালচার চর্চার ব্যাপক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও চেষ্টার জায়গাটা একেবারে সংকীর্ণ ও না।
অমুসলিম সমাজে অনেক মুসলিম জুমার দিনে চাকুরী/ব্যবসা থাকা সত্ত্বেও মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যান সবকিছু ম্যানেজ করে, অল্প সময়ের জন্য হলেও।
কিন্তু অমুসলিম সমাজে অধিকাংশ মুসলিম ই জুমার নামাজের ব্যাপারে উদাসীন। তাদের মধ্যে সেই চেষ্টা এবং মানসিকতাও একসময় হারিয়ে যায় পশ্চিমা সিস্টেমের কারনে।
হ্যাঁ, অধিকাংশ মানুষ ই সিস্টেমের অনুসারী হবে বিধায় ই রাসূল(স:) মুসলিমদেরকে অমুসলিম প্রধান সমাজে বসবাস করতে নিষেধ করেছেন। কারন সকল মুসলিম তাকওয়ার কারনে আল্লাহর ইবাদাত করবেনা। কিছু মানুষ আল্লাহকে ভালোবেসে ইবাদাত করবে, কিছু মানুষ আল্লাহকে ভয় করে ইবাদাত করবে। আর অধিকাংশ মানুষ ই সিস্টেমে পড়ে বা সামাজে প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ দেখে ইবাদাত করবে।
পশ্চিমার অনেক জায়গায় অমুসলিম রা জানে যে, মুসলিম রা হালাল মীট খায়। কারন মুসলিম রা সব জায়গায় হালাল খোঁজে। অন্তত তাদের বিজনেসের কারনে হলেও অনেক রেস্টুরেন্টে/সুপারশপে এখন হালাল অপশন থাকে।
একইভাবে সকলে যদি জুমাবারে ২০ মিনিটের জন্য হলেও কাজ কর্ম ম্যানেজ করে জুমার নামাজ পড়ত, তাহলে অমুসলিম সমাজেও হালাল খাবারের মতই জুমার নামাজের মর্যাদা কায়েম(প্রতিষ্ঠিত) হতে পারত।
এভাবে অমুসলিম রা মুসলিমদের জুমার দিন এবং দুই ঈদের দিনের মর্যাদা সম্পর্কে জানত।
তাতে হয়ত তারা তাদের অন্তত বিজনেস মডেল ও সেভাবে ডিজাইন করত। কারন যেকোনো দিবস সেলিব্রেশনের সাথে বিজনেসের একটা সম্পর্ক থাকে।
অমুসলিম সমাজের মুসলিম ব্যবসায়ীরা জুমার দিনে স্পেশাল অফার/ডিসকাউন্ট রাখার মাধ্যমেও এই দিনটির মর্যাদা তুলে ধরতে পারে অমুসলিমদের মাঝে। তাছাড়া বেসরকারি মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোতেও শক্রবারে ছুটির রেওয়াজ তৈরির মাধ্যমেও কর্মচারীদের জুমার নামাজের ব্যবস্থা করতে পারে।
মুসলিম বাচ্চারা এই দিনের মর্যাদা স্কুলে তুলে ধরতে পারে। যেসব জায়গায় স্কুলিং বাধ্যতামূলক নয় সেখানে মুসলিম বাচ্চার গার্ডিয়ানরা বাচ্চাদেরকে ক্লাস সেক্রিফাইস করে জুমা পড়ার জন্য উৎসাহিত করতে পারে। বা গার্ডিয়ান রা স্কুলে এটা নিয়ে কথা বলতে পারে।
এভাবে যে যার জায়গা থেকে সাধ্যমত চেষ্টা করলে হয়ত অমুসলিম সমাজেও কিছুটা হলেও মুসলিমদের কালচার প্রতিষ্ঠিত হত।
জুমুয়ার দিনের একটা স্বাদ আছে, একটা জান্নাতী আনন্দ আছে যেটার জন্য আলাদা করে কোন আয়োজনের প্রয়োজন হয়না। এই স্বাদ, এই আনন্দ শুরু হয় বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে এবং শেষ হয় শক্রবার মাগরিব পর্যন্ত। এই দিনের স্বাদ এবং আনন্দ নিহিত এই দিনের হক আদায়ের মধ্যে।
এই দিনকে রাসূল(স:) মুসলিমদের ঈদের দিন হিসেবে ঘোষণা করেছেন। বরং আল্লাহর কাছে জুমার দিন দুই ঈদের চাইতেও বেশী প্রিয় বলে উল্লেখ করেছেন হাদিসে রাসূল(স:)।
حَدَّثَنَا عَمَّارُ بْنُ خَالِدٍ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ غُرَابٍ، عَنْ صَالِحِ بْنِ أَبِي الأَخْضَرِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ بْنِ السَّبَّاقِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ هَذَا يَوْمُ عِيدٍ جَعَلَهُ اللَّهُ لِلْمُسْلِمِينَ فَمَنْ جَاءَ إِلَى الْجُمُعَةِ فَلْيَغْتَسِلْ وَإِنْ كَانَ طِيبٌ فَلْيَمَسَّ مِنْهُ وَعَلَيْكُمْ بِالسِّوَاكِ " .
বর্ণনাকারী: ইবনু আব্বাস (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ এই দিনকে মুসলিমদের ঈদের দিনরূপে নির্ধারণ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি জুমুআর সালাত আদায় করতে আসবে সে যেন গোসল করে এবং সুগন্ধি থাকলে তা শরীরে লাগায়। আর মিসওয়াক করাও তোমাদের কর্তব্য।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৯৮
হাদিসের মান: হাসান হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ أَبِي لُبَابَةَ بْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ سَيِّدُ الأَيَّامِ وَأَعْظَمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَهُوَ أَعْظَمُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ فِيهِ خَمْسُ خِلاَلٍ خَلَقَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ وَأَهْبَطَ اللَّهُ فِيهِ آدَمَ إِلَى الأَرْضِ وَفِيهِ تَوَفَّى اللَّهُ آدَمَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لاَ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا الْعَبْدُ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ مَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ وَلاَ سَمَاءٍ وَلاَ أَرْضٍ وَلاَ رِيَاحٍ وَلاَ جِبَالٍ وَلاَ بَحْرٍ إِلاَّ وَهُنَّ يُشْفِقْنَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ " .
বর্ণনাকারী: আবূ লুবাবাহ বিন আবদুল মুনযির (রাঃ)
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন, জুমুআর দিন হলো সপ্তাহের দিনসমূহের নেতা এবং তা আল্লাহর নিকট অধিক সম্মানিত। এ দিনটি আল্লাহর নিকট কুরবানির দিন ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়ে অধিক সম্মানিত। এ দিনে রয়েছে পাঁচটি বৈশিষ্ট্যঃ
(১) এ দিন আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করেন,
(২) এ দিনই আল্লাহ তাঁকে পৃথিবীতে পাঠান এবং
(৩) এ দিনই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করেন।
(৪) এ দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোনো বান্দা তখন আল্লাহর নিকট কিছু প্রার্থনা করলে তিনি তাকে তা দান করেন, যদি না সে হারাম জিনিসের প্রার্থনা করে এবং
(৫) এ দিনই কেয়ামত সংঘটিত হবে।
নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতাগণ, আসমান-জমিন, বায়ু, পাহাড়-পর্বত ও সমুদ্র সবই জুমুআর দিন শঙ্কিত হয়।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৮৪
হাদিসের মান: হাসান হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
অর্থাৎ এই দিনটি দুই ঈদের মতই কিংবা তার চেয়েও বেশী প্রিয় আল্লাহর কাছে। কারন জুমাবারের সুন্নাহ ঈদের সুন্নাহ এর চাইতেও বেশী।
তাহলে একবার ভাবুন, বছরে যদি ৫২ টি শক্রবার থাকে তাহলে মুসলিমদের ঈদ মোট কয়টি?
৫২+২=৫৪ টি ঈদ।
এরপরেও কি আমাদের বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে ধার করে দিবস উদযাপন করার প্রয়োজন আছে?
বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ এর মাধ্যমে আমাদের দুর্বল মনোবলের পরিচয় দিয়ে থাকি। বিজাতীয় সংস্কৃতির অনুসরণ এর মাধ্যমে আমরা এটাই প্রমান করি যে, আমরা আমাদের দ্বীন ইসলাম নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। আমাদের দ্বীন ইসলাম আমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। অথচ, একমাত্র আমাদের দ্বীন ইসলামের ব্যাপারেই কুরআনে আল্লাহ বলেছেন, "
اَلْيَوْمَ اَكْمَلْتُ لَكُمْ دِيْنَكُمْ وَاَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِيْ وَرَضِيْتُ لَكُمُ الْاِسْلَامَ دِيْنًا ؕ
আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দীন পূর্ণাঙ্গ করলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দীন হিসাবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়িদা:৩)
যা অন্য কোন পূর্ববর্তী উম্মাতের ব্যাপারে বলা হয়নি।
তাহলে আমরা কিভাবে এই আয়াত নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করলাম!
ঈদ আরবী শব্দ। বাংলায় বলে আনন্দ/খুশী/উদযাপন। আর ইংরেজিতে বলে Celebration।
“ঈদ” শব্দটি এসেছে ‘আদা/ইয়াউদ’ মূল ধাতু থেকে, যার অর্থ হলো ফিরে আসা বা পুনরাবৃত্ত হওয়া।
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) বলেনঃ
“ঈদ’ এমন একটি উপলক্ষের নাম, যা বারবার ফিরে আসে এবং যেখানে মানুষ আনন্দ-উৎসবের সাথে সমবেত হয়; তা বার্ষিক, সাপ্তাহিক, মাসিক বা অন্য যেকোনো সময়ের হতে পারে।”
— ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকীম, ১/৪৪১
ইবনু আবিদীন (রহঃ) বলেনঃ
“ঈদকে ‘ঈদ’ বলা হয় এ কারণে যে, আল্লাহ তাআলা এসব দিনে বারবার তাঁর বান্দাদের প্রতি নিয়ামত দান করেন; অর্থাৎ এমন সব নিয়ামত যা পুনরায় ফিরে আসে। যেমন—খাবার থেকে বিরত থাকার পর রোযা ভঙ্গ করা, সদাকাতুল ফিতর আদায়, হজ সম্পন্ন করে তাওয়াফুয যিয়ারাহ করা, কুরবানির গোশত ইত্যাদি। আর এসব উপলক্ষে আনন্দ, খুশি এবং উৎফুল্লতা প্রকাশ করাও প্রচলিত।”
— হাশিয়াতু ইবনু আবিদীন, ২/১৬৫
(তথ্যসূত্র: Islamqa.info, Article-Mothers day)
সুতরাং ঈদের ডেফিনেশন অনুযায়ী শক্রবার দিন ও মুসলিমদের ঈদের দিন। কারন এটি প্রতি সপ্তাহে বার বার ফিরে আসে এবং এই দিনে কিছু নির্দিষ্ট সুন্নাহ বার বার করা হয়।
সুতরাং মুসলিমদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত ঈদ তথা খুশীর দিন হল বছরে ৫৪/৫৬ দিন(যদি Leap Year হয়)।
এছাড়াও মানুষের জীবনে আল্লাহ এক কালীন অনেক বিশেষ দিন উপহার দেন যেগুলো জীবনে বার বার ফিরে আসেনা। যেমন, সন্তান জন্মের দিন, বিয়ের দিন ইত্যাদি। তারপর মুসলিম সুন্নাহ কালচার হিসেবে আছে আক্বীকা, সুন্নাতে খৎনা। সুন্নাহ কালচার ছাড়াও মুসলিমদের অন্যান্য এমন সামাজিক অনুষ্ঠান পালনে বিধি নিষেধ নেই যা স্পষ্টভাবে অমুসলিম কালচার থেকে আসেনি বা অমুসলিম কালচারে চর্চা নেই।
কিন্তু বাস্তবতা হল আমরা মুসলিম রা এই নির্দিষ্ট ৫৪ দিন এবং উপরোক্ত কালচারাল সুন্নাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এর জন্য সময় বের করতে পারেনা। তাছাড়া সেই বাজেট ও সবার থাকেনা। এই ৫৪ দিন না হয় ধরলাম সবার জন্য একই দিন। কিন্তু অন্যান্য কালচারাল সুন্নাহ অনুষ্ঠানে (যেমন, বিয়ে, আক্বীকা, সন্নাতে খৎনা ইত্যাদি) আপনার পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু সার্কেল সবার টা চিন্তা করলে আসলে এত দাওয়াত নেয়ার সময় ই বা কোথায় বা সেই বাজেট ই বা কোথায় বলুন? সেজন্য মুসলিম সমাজে প্রধানত শক্রবার কিংবা সামার/উইন্টার ভেকেশনে অন্যান্য কালচারাল সুন্নাহ অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়। আর অমুসলিম সমাজের মুসলিম রা বাধ্য হয়ে শনিবার এবং রবিবার চুজ করতে হয় সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য। এদিক দিয়ে অমুসলিম প্রধান সমাজের মুসলিম বাচ্চারা সুন্নাহ কালচারের দিক দিয়ে অনেক ঝুকিপূর্ণ অবস্থানে থাকে।
কালচারাল সুন্নাহ অনুষ্ঠান উদযাপনের এই যদি হয় বাস্তবতা, তাহলে আবার আলাদা করে পশ্চিমা সংস্কৃতি উদযাপনের যৌক্তিকতা কোথায় বলুন?
বরং আমরা যত বেশী পশ্চিমা কালচারে ডুব দিচ্ছি ততবেশী সুন্নাহ কালচারের স্বাদ হারিয়ে ফেলছি। তাই আমাদের এখন আর আগের মত ঈদের আনন্দ পাইনা, জুম্মাবারের আনন্দ পাইনা।
এবার আসুন দেখি ৩৬৫ দিনের মধ্যে জুম্মাবারের এই ৫৪ দিনে কোন সুন্নাহ কালচার আমাদের মাঝে প্রতি সপ্তাহে ফিরে আসে। জুমুয়ার দিনের সুন্নাহগুলো হল:
১. জুম্মাবার ফজরের নামাজের সুন্নাহ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ـ هُوَ ابْنُ هُرْمُزَ ـ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْجُمُعَةِ فِي صَلاَةِ الْفَجْرِ {الم * تَنْزِيلُ} السَّجْدَةَ وَ{هَلْ أَتَى عَلَى الإِنْسَانِ}
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জুমার দিন ফজরের সালাতে الم تَنْزِيلُ এবং
وَهَلْ أَتَى عَلَى الْإِنْسَانِ حِينٌ مِنْ الدَّهْرِ
সূরা দুইটি তিলাওয়াত করতেন।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৮৯১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
অর্থাৎ, রাসূল(স:) ফজরের নামাজের ফরজ সালাতের প্রথম রাকাতে সূরা আস সাজদা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আদ দাহর/ইনসান পড়তেন।
ইবনে হাজার (রহ.) উল্লেখ করেছেন, এই দুটি সূরা তিলাওয়াতের কারণ হলো এতে আদমের (আ.) সৃষ্টি এবং কেয়ামতের বিবরণ রয়েছে, যা এই শুক্রবারেই ঘটেছিল ও ঘটবে।
একবার ভেবে দেখুন, শক্রবার দিন আমাদের প্রথম পিতার জন্মদিন। আর ঐদিনেই সকল মানবকে আদম(আ:) এর পিঠ থেকে বের করা হয়। অর্থাৎ এই শক্রবার দিন সমগ্র মানব জাতির জন্মদিন। আবার একই দিন পৃথিবীর ধ্বংসের দিন। রাসূল(স:) প্রথমেই সমগ্র সৃষ্টির ধ্বংস স্মরণ করতেন সূরা আস সাজদা পড়ে। তারপর তিনি আদম(আ:) তথা সমগ্র মানব জাতির সৃষ্টির উদ্যেশ্য স্মরণ করতেন সূরা আদ দাহর/ইনসান পড়ে। অর্থাৎ প্রথমে মৃত্যুকে স্মরণ করতেন, তারপর জন্মকে। তিনি স্মরণ করতেন মানুষের প্রথম জন্ম এবং শেষ মৃত্যুকে। কারন মানুষের মৃত্যু এবং জন্ম ২+২=৪ বার। এ ব্যাপারে আসছে সূরা বাকারায় এবং সূরা আল গাফিরে।
كَيْفَ تَكْفُرُوْنَ بِاللّٰهِ وَكُنْتُمْ اَمْوَاتًا فَاَحْيَاكُمْ ۚ ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيْكُمْ ثُمَّ اِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ
কিরূপে তোমরা আল্লাহকে অবিশ্বাস করছ? অথচ তোমরা ছিলে প্রাণহীন? অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে সঞ্জীবিত করেছেন, পুনরায় তিনি তোমাদেরকে নির্জীব করবেন এবং পুনরায় তোমাদেরকে জীবিত করা হবে। অবশেষে তোমাদেরকে তাঁরই দিকে প্রত্যাগমন করতে হবে।(সূরা বাকারা,২:২৮)
قَالُوْا رَبَّنَاۤ اَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ وَاَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوْبِنَا فَهَلْ اِلٰي خُرُوْجٍ مِّنْ سَبِيْلٍ
তারা বলবেঃ হে আমাদের রাব্ব! আপনি আমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থায় দু’বার রেখেছেন এবং দু’বার আমাদেরকে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি; এখন নিস্ক্রমণের কোন পথ মিলবে কি?(সূরা গাফির ৪০:১১)
এরপরে কি আমাদের আলাদা করে বছরে একদিন শুধুমাত্র নিজের জন্মদিন উদযাপন করার প্রয়োজন আছে? আমাদের জন্মদিন উদযাপনে মৃত্যুর কথা ভুলিয়ে দেয়, কিয়ামতের কথা ভুলিয়ে দেয়, শুধু হাজার বছর বেঁচে থাকার আকাঙ্খা তৈরি করে। আমরা আমাদের জন্মদিনে শুধু দ্বিতীয় জন্মের কথা স্মরণ করি, মৃত্যুর কথা চিন্তা করিনা। অথচ রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণ করলে সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের সৃষ্টির অস্তিত্বের কথা চিন্তা করার পাশাপাশি নিজেদের ধ্বংস/মৃত্যু এবং হিসাব নিকাশের কথাও স্মরণ হত আমাদের।
আমরা জুম্মাবারের হক আদায় করলে হয়ত আর আমাদেরকে বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে আনন্দ খোঁজার প্রয়োজন পড়তনা।
২. গোসল ও মিসওয়াক করা; সাধ্যানুরূপ সুগন্ধি ব্যবহার করা।
وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ، الْحَارِثِ أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي هِلاَلٍ، وَبُكَيْرَ بْنَ الأَشَجِّ، حَدَّثَاهُ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ عَمْرِو، بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِوَاكٌ وَيَمَسُّ مِنَ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ " . إِلاَّ أَنَّ بُكَيْرًا لَمْ يَذْكُرْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ وَقَالَ فِي الطِّيبِ وَلَوْ مِنْ طِيبِ الْمَرْأَةِ .
বর্ণনাকারী: আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জুমু‘আর দিন প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গোসল ও মিসওয়াক করা কর্তব্য এবং সামর্থ্য থাকলে সে যেন সুগন্ধি ব্যবহার করে। অধস্তন বর্ণনাকারী বুকাইর আবদুর রহমান-এর উল্লেখ করেননি এবং সুগন্ধির ব্যাপারে তার বর্ণনায় আছেঃ “এমনকি স্ত্রীর সুগন্ধি থেকে হলেও।”
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৪৫
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
৩. উত্তম পোষাকাদি পরা
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ زُهَيْرٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ خَطَبَ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَرَأَى عَلَيْهِمْ ثِيَابَ النِّمَارِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَا عَلَى أَحَدِكُمْ إِنْ وَجَدَ سَعَةً أَنْ يَتَّخِذَ ثَوْبَيْنِ لِجُمُعَتِهِ سِوَى ثَوْبَىْ مِهْنَتِهِ " .
বর্ণনাকারী: আয়িশা (রাঃ)
নবী (ﷺ) জুমআর দিন লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি তাদেরকে দৈনন্দিনের পোশাক পরিহিত দেখেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদের কী হলো যে, তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে সে কি তার কাজকর্মের পোশাকদ্বয় ছাড়া জুমআর সালাতের জন্য আরো একজোড়া পোশাক গ্রহণ করতে পারে না?
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৯৬
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ أَبِي سَهْلٍ، وَحَوْثَرَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَدِيعَةَ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَأَحْسَنَ غُسْلَهُ وَتَطَهَّرَ فَأَحْسَنَ طُهُورَهُ وَلَبِسَ مِنْ أَحْسَنِ ثِيَابِهِ وَمَسَّ مَا كَتَبَ اللَّهُ لَهُ مِنْ طِيبِ أَهْلِهِ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ وَلَمْ يَلْغُ وَلَمْ يُفَرِّقْ بَيْنَ اثْنَيْنِ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الأُخْرَى " .
বর্ণনাকারী: আবূ যার (রাঃ)
নবী (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি জুমুআর দিন উত্তমরূপে গোসল করে, উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তার উৎকৃষ্ট পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমুআর সালাতে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুজনের মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১০৯৭
হাদিসের মান: হাসান সহিহ
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
৪. আগে আগে মসজিদে যাওয়া
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ، فِيمَا قُرِئَ عَلَيْهِ عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ السَّمَّانِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ غُسْلَ الْجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ كَبْشًا أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الْخَامِسَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الإِمَامُ حَضَرَتِ الْمَلاَئِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: যে ব্যক্তি জুমুয়ার দিন জানাবাতের (ফরজ গোসল) গোসলের মত গোসল করল, অতঃপর দিনের প্রথমভাগে মসজিদে এল, সে যেন একটি উট কোরবানি করল। অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি গরু কোরবানি করল; অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি ভেড়া কোরবানি করল, অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি মুরগী কোরবানি করল, অতঃপর যে ব্যক্তি আসলো সে যেন একটি ডিম কোরবানি করল। অতঃপর ইমাম যখন খুতবা দিতে (দাঁড়ালেন) তখন ফেরেশতাগণ খুতবা শোনার জন্য উপস্থিত হন।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৪৯
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
৫. খুৎবার সময় চুপ থাকা
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رُمْحِ بْنِ الْمُهَاجِرِ، قَالَ ابْنُ رُمْحٍ أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ . يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ " .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: ইমামের খুতবা দানরত অবস্থায় তুমি যদি তোমার সাথীকে বল, 'চুপ কর' তবে তুমি অনর্থক কাজ করলে।
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৮৫০
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
৬. ভাল খাবারের আয়োজন
শুক্রবারে কি শুধুই ইবাদাত? কোন খাবার দাবার আনন্দ আয়োজন নেই? তা না হলে কি ঈদ বলা যায় তাকে?
রাসূল(স:) এর নারী সাহাবীরা শক্রবারে ভাল খাবার দাবারের আয়োজন করতেন এবং সবাইকে আমন্ত্রন জানাতেন সেই খাবার খাওয়ার জন্য।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلٍ، قَالَ كَانَتْ فِينَا امْرَأَةٌ تَجْعَلُ عَلَى أَرْبِعَاءَ فِي مَزْرَعَةٍ لَهَا سِلْقًا، فَكَانَتْ إِذَا كَانَ يَوْمُ جُمُعَةٍ تَنْزِعُ أُصُولَ السِّلْقِ فَتَجْعَلُهُ فِي قِدْرٍ، ثُمَّ تَجْعَلُ عَلَيْهِ قَبْضَةً مِنْ شَعِيرٍ تَطْحَنُهَا، فَتَكُونُ أُصُولُ السِّلْقِ عَرْقَهُ، وَكُنَّا نَنْصَرِفُ مِنْ صَلاَةِ الْجُمُعَةِ فَنُسَلِّمُ عَلَيْهَا، فَتُقَرِّبُ ذَلِكَ الطَّعَامَ إِلَيْنَا فَنَلْعَقُهُ، وَكُنَّا نَتَمَنَّى يَوْمَ الْجُمُعَةِ لِطَعَامِهَا ذَلِكَ.
বর্ণনাকারী: সাহ্ল (রাঃ)
আমাদের মধ্যে বসবাসকারিণী জনৈকা মহিলা একটি ছোট নহরের পাশে ক্ষেতে বীটের চাষ করতেন। জুমার দিনের সে বীটের মূল তুলে এনে রান্নার জন্য ডেগে চড়াতেন এবং এর উপর এক মুঠো যবের আটা দিয়ে রান্না করতেন। তখন এ বীট মূলই এর গোশত (গোশতের বিকল্প) হয়ে যেত। আমরা জুমার সালাত হতে ফিরে এসে তাঁকে সালাম দিতাম। তিনি তখন খাদ্য আমাদের সামনে রাখতেন এবং আমরা তা খেতাম। আমরা সে খাদ্যের আশায় জুমার দিন উদগ্রীব থাকতাম।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯৩৮
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
এই অনুগ্রহের আশায় সাহাবীরা উদগ্রীব থাকতেন যেটা সূরা জুমুয়ায় বলা হয়েছে,
فَاِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْاَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْلِ اللّٰهِ وَاذْكُرُوا اللّٰهَ كَثِيْرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ
সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও।(সূরা জুমুয়া,৬২:১০)
৭. কায়লুলা(দুপুরের বিশ্রাম)
খাবার দাবার শেষ। এবার বিশ্রামের পালা।
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْجُمُعَةَ ثُمَّ تَكُونُ الْقَائِلَةُ.
বর্ণনাকারী: সাহ্ল (রাঃ)
আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে জুমা সালাত আদায় করতাম। অতঃপর দুপুরের বিশ্রাম ও হালকা নিদ্রা যেতাম।
সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৯৪১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
৮. দুয়া কবুলের বিশেষ সময়
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ فِي الْجُمُعَةِ سَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا خَيْرًا إِلاَّ أَعْطَاهُ " . وَقَلَّلَهَا بِيَدِهِ .
বর্ণনাকারী: আবূ হুরায়রা (রাঃ)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জুমুআর দিন একটি বিশেষ মুহূর্ত আছে, কোনো মুসলিম বান্দা সেই মুহূর্তে সালাতরত অবস্থায় আল্লাহর নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করলে নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি হাতের ইশারায় বলেন যে, সেই মুহূর্তটি খুবই সীমিত।
সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১১৩৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
পুরো সপ্তাহ ব্যাপী আমরা যেসব সমস্যার মধ্য দিয়ে যাই তা লিস্ট করে শক্রবারের এই সময়টাতে আল্লাহর কাছে পেশ করতে পারি যেন তিনি সমাধান দেন। যদিও আল্লাহর কাছে চাওয়া যায় যেকোনো সময়।
৯. সপ্তাহের নূর: সূরা কাহাফ পাঠ
وعن أَبِي سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللّٰهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنْ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
বর্ণনাকারী: আবু সাঈদ (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করে, সে ব্যক্তির জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী কাল জ্যোতির্ময় হয়ে যায়।” (হাকেম, বাইহাক্বী, সহীহুল জামে’৬৪৭০)
হাদিস সম্ভার, হাদিস নং ১৪৫৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
দুই জুমার মধ্যবর্তী কালের হিদায়াত, নিরাপত্তা নিহিত রয়েছে শক্রবারে সূরা কাহাফ পাঠের মধ্যে। শুধু শক্রবার নয়, সূরা কাহাফ পাঠের ফজীলত সবসময়ই বিদ্যমান থাকে।
১০. বেশী বেশী দরুদ পাঠ
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي الأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ، عَنْ أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ قُبِضَ وَفِيهِ النَّفْخَةُ وَفِيهِ الصَّعْقَةُ فَأَكْثِرُوا عَلَىَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَىَّ " . قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاَتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرِمْتَ يَقُولُونَ بَلِيتَ . فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ " .
বর্ণনাকারী: আওস ইবনু আওস (রাঃ)
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের দিনসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম হল জুমু’আর দিন। এদিন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এদিনই তাঁর রূহ কবজ করা হয়েছিল, এদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং এদিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এদিন তোমরা আমার উপর বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়। আওস ইবন আওস (রাঃ) বলেন, লোকেরা বুঝতে চাচ্ছিল তোমার তো দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে মাটিতে মিশে যাবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রাসূলগণের দেহকে হারাম করে দিয়েছেন।
সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১০৪৭
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস
সোর্স: আল হাদিস অ্যাপ, irdfoundation․com
যেহেতু জুমার দিনেই কিয়ামত হবে তাই জুমার দিনে বেশী বেশী দরুদ পাঠ কিয়ামতের দিন রাসূল(স:) এর নিকটবর্তী হওয়ার কারন হবে ইনশাআল্লাহ!
সুতরাং সংক্ষেপে জুমার দিনের সুন্নাহ ইবাদাতসমূহ হল:
জুমার দিনের ১০ টি সুন্নাহ কালচার
১. জুমার ফজরে সূরা আস-সাজদাহ ও সূরা আল-ইনসান তিলাওয়াত — সহিহ বুখারী, হাদিস ৮৯১
২. গোসল, মিসওয়াক ও সুগন্ধি ব্যবহার — সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮৪৫
৩. উত্তম ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান — সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১০৯৬–১০৯৭
৪. আগে আগে মসজিদে যাওয়া — সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮৪৯
৫. খুতবার সময় চুপ থাকা — সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৮৫০
৬. জুমার দিন ভালো খাবারের আয়োজন — সহিহ বুখারী, হাদিস ৯৩৮
৭. জুমার পর কায়লুলা (দুপুরের বিশ্রাম) — সহিহ বুখারী, হাদিস ৯৪১
৮. দু‘আ কবুলের বিশেষ সময় অনুসন্ধান — সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ১১৩৭
৯. পুরো সপ্তাহের নূর: জুমার দিন সূরা আল-কাহফ পাঠ — হাকেম, বাইহাকী; সহীহুল জামে‘, হাদিস ৬৪৭০।
১০. বেশী বেশী দরুদ পাঠ: কিয়ামতের দিন রাসূলের নিকটবর্তী হওয়া--সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১০৪৭)
কিভাবে আমরা এই দিনটির মর্যাদা রক্ষা করতে পারি?
মুসলিম সমাজে যেভাবে দিনটির মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করা যায়:
১. জুমার দিনের ফজরের সুন্নাহ সম্পর্কে সবাইকে অভ্যস্ত করানো।
২. জুমার দিনে পরিবারের সবাইকে গোসল করা এবং মেসওয়াকের ব্যাপারে অভস্ত করানো।
৩. পরিবারের ছেলে সদস্যদেরকে মসজিদে সুগন্ধী দিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অভস্ত করানো।
৪. পরিবারের সবাইকে নিয়ে জুমার নামাজে অংশগ্রহণ এর অভ্যস্ততা তৈরি করা(যদি নারীদের ও বিশেষ ব্যবস্থা থাকে)।
৫. খুৎবা চলাকালীন সময়ে চুপ থাকার ব্যাপারে আগেই পরিবারের সবাইকে রিমাইন্ডার দেয়া।
৬. জুমার দিনে দুপুরের জন্য বাসায় সবার পছন্দের খাবার তৈরি করার চেষ্টা করা।
৭. মসজিদ কর্তৃপক্ষ জুমার নামাজের পরে মুসুল্লীদের জন্য লোকাল স্পেশাল খাবারের আয়োজন করতে পারে। সেজন্য আলাদা ফান্ড তৈরি করতে পারে। বাচ্চাদের জন্য তাদের পছন্দের খাবার রাখতে পারে।
৮. এছাড়াও মসজিদে জুমাকেন্দ্রিক বিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা রাখা যায়।
৯. আশে পাশের মানুষদেরকেও জুমার সময় মসজিদে উপস্থিত থাকার জন্য উৎসাহিত করা।
১০. এছাড়াও পরিবারে সূরা কাহাফ পাঠ, দরুদ পাঠ, দুয়া করা এগুলো অব্যাহত রাখা।
অমুসলিম সমাজে যেভাবে জুমার দিন প্রতিষ্ঠিত করা যায়:
১. শক্রবার দিবাগত রাত কিন্তু শক্রবার নয়। বরং বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত হল শক্রবার রাত শুরু। শক্রবার দিবাগত রাত মূলত অমুসলিমদের উদযাপন শুরু হয়। তাই অমুসলিম সমাজে মুসলিমদেরকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। যেহেতু শক্রবারে ছুটির দিন নয় তাই সবাইকে নিয়ে ভাল খাবার একসাথে খাওয়া সম্ভব না। সেক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতের ডিনার টা পরিবারের সবার পছন্দের খাবার দিয়ে উদযাপন শুরু করা যায়।
২. স্কুল/কলেজ/ইউনিভার্সিটি/চাকুরী থাকলেও জুমার দিন সবচেয়ে ভাল কাপড় পরে কর্মস্থলে/শিক্ষাংগনে প্রবেশ করা যেন সহকর্মী/সহপাঠীরা দেখলেই বুঝে আজকে মুসলিমদের স্পেশাল দিন।
৩. ছেলের আতর/সুগন্ধি পকেটে/ব্যাগে নিয়ে কর্মস্থলে/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাবে।
৪. কর্মস্থল থেকে মাত্র ২০/৩০ মিনিটের ব্রেক ম্যানেজ করে মুসলিম রা অমুসলিম সমাজেও কাছের মসজিদে জুমা পড়তে পারে।
৫. প্যারেন্টস রা সাবালক ছেলেদেরকে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পিক করে মসজিদে নিয়ে যেতে পারে ২০/৩০ মিনিটের জন্য। আবার কর্মস্থলে যাওয়ার সময় সন্তানকে তাদের শিক্ষাস্থলে ড্রপ করে দিতে পারে। সবচেয়ে কাছের মসজিদ চুজ করা যায়। অনেক মসজিদে ২ টা জামাত হয়। এগুলো এডজাস্ট করে নিতে পারেন তারা।
৬. জুমার অন্যান্য সুন্নাহ গুলো সবাই কর্মস্থল/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থেকেও আমল করতে পারেন।
৭. মসজিদ গুলো যার যার লোকাল স্পেশাল ফুডের ব্যবস্থা রাখতে পারে জুমার নামাজের পর। প্যাকেট হিসেবেও দেয়া যায়। এজন্য ওনারা আলাদা ডোনেশন একাউন্ট মেইনটেইন করতে পারেন। যদি তা সিংগেল খেজুর ও হয় তবুও খাবারের ব্যবস্থা রাখা।
৮. খুৎবাকালীন সময়ে চুপ থাকার ব্যাপারে পরিবারের সবাইকে আগেই রিমাইন্ডার দেয়া।
৯. কেউ যদি অমুসলিম সমাজে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তাহলে সেখানে বছরের পর বছর জুমা ছুটতে থাকলে আল্লাহর কাছে কি আসলেই কোন অজুহাত দাঁড় করানো যাবে? অমুসলিম সমাজেতো সেসব মুসলিমদের থাকার অনুমতি আছে যারা সেখানে নিজেদের দ্বীন রক্ষা করে চলতে পারবে জ্ঞান এবং পরিবেশ তৈরি করার মাধ্যমে; যারা সেখানে নিজের দ্বীন রক্ষার পাশাপাশি দ্বীনের প্রচার, প্রসার এবং কায়েমের কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।
পরিশেষে,
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَّا قَدَّمَتْ لِغَدٍ ۚ وَاتَّقُوا اللّٰهَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ خَبِيْرٌۢ بِمَا تَعْمَلُوْنَ
হে মু’মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর, প্রত্যেকেই ভেবে দেখুক যে, আগামী কালের জন্য সে কি অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় কর; তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত।
(সূরা হাশর:১৮)
يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا قُوْۤا اَنْفُسَكُمْ وَاَهْلِيْكُمْ نَارًا وَّقُوْدُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ عَلَيْهَا مَلٰٓئِكَةٌ غِلَاظٌ شِدَادٌ لَّا يَعْصُوْنَ اللّٰهَ مَاۤ اَمَرَهُمْ وَيَفْعَلُوْنَ مَا يُؤْمَرُوْنَ
হে বিশ্বাস স্থাপনকারীগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে রক্ষা কর অগুন হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম হৃদয় কঠোর স্বভাবের মালাইকা (ফেরেশতা), যারা অমান্য করেনা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তা’ই করে।(সূরা আত তাহরীম:৬)
فَاِذَا جَآءَتِ الصَّآخَّةُ ۫
যখন ঐ ধ্বংস ধ্বনি এসে পড়বে;
يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ اَخِيْهِ ۙ
সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই হতে,
وَاُمِّهٖ وَاَبِيْهِ ۙ
সূরা আবাসা(৩৩-৩৫)

Send a Comment
Your comment will be sent privately to the MCC Newsletter team and will not be published on the website.